প্রথম ধাপ ঃ মানুষ কে দিয়ে মার্কেটিং তাদের নিকট নয় !

৫/৭ বছর আগের অবস্থা ছিল পুঁজি থাকলে সাধারণ পণ্য বা সেবা তৈরি করে , লাখ লাখ টাকা দিয়ে কোন পত্রিকার প্রথম পেজ জুড়ে বা কোন চ্যানেল এ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এড ক্রয় করে দিলেই আপনার পণ্য বা সেবা বাজিমাৎ ।

আর নয়
সেই ঘুনে ধরা মার্কেটিং থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে !

আমাকে Believe করছেন না ?

শেষ বারের মত কখন আপনি আপনার হাতে থাকা পত্রিকার এড গুলি মন দিয়ে দেখেছেন ?
টিভির এড দেখার জন্য বসে থেকেছেন ? মনে পড়ে ?

মনে পড়ে না তাই না ?

তার পরেও আমরা সেই মার্কেটিং ই করে যাচ্ছি যা থেকে আমরা বাস্তব জীবনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি ।

” নতুন কোন কোম্পানি বা পণ্য নিয়ে আসতে চাইলে প্রথম পদক্ষেপ হবে নিজের চিন্তা ধারা আগে বদলে ফেলা পণ্য বা সেবা রেডি করে তারপর মার্কেটিং এর কথা ভাববো সেটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা ” ।

আপনার পণ্য বা সেবা প্রস্তুতিতে সম্ভাব্য গ্রাহক এর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাটাই মার্কেটিং ।

দ্বিতীয় ধাপ ঃ

সম্ভাব্য সর্বনিম্ন সংখ্যক মানুষ কে টার্গেট করা ।

২০০৪ সালে Mark Zuckerberg ফেসবুক নিয়ে আসে শুধুমাত্র Harvard এর ছাত্রছাত্রীর দের জন্য ।
এখন ফেসবুক কত জন এর কাছে ।

আপনি এই বছরেই কোটিপতি হচ্ছেন না হয়ত ৫ বছর ৭ বছর এমনকি ১০ বছর ও লেগে যেতে

পারে সেটা কে জানে ?

” কিভাবে কম সংখ্যক মানুষ কে টার্গেট করব ”

আপনার মাথায় হয়ত আইডিয়া আছে শাড়ীর বিজনেস করার । আমরা জানি যে অনেক প্রকার শাড়ি আছে পাবনার শাড়ি , টাঙ্গাইল এর শাড়ি , মসলিন এর শাড়ি , রাজশাহীর সিল্ক শাড়ি , কাতান শাড়ি আর ও অনেক শাড়ি ।
এত গুলির মাঝ থেকে শুরুতে একটিমাত্র শাড়ি বেছে নিতে হবে ধরে নেই রাজশাহীর সিল্ক শাড়ি ।
রাজশাহীর সিল্ক শাড়ি এর দাম হয়ত ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা হতে পারে । তাহলে ধরে নেয়া যায় আপনার গ্রাহক তারাই যারা এই দামের শাড়ি পরে । এর কম বা বেশী দামে পরে তাদের কে নিয়ে আপনার আর ভাবার দরকার নাই ।
এখন আপনি চিন্তা করেন আপনার সম্ভাব্য গ্রাহক এর লাইফস্তাইল নিয়ে । কোন মানের জীবন যাপন করে তারা । যারা ১০ বা ১৫ হাজার টাকার শাড়ি পরে আর যাইহোক তারা বাসা ভাড়া বা সন্তানদের স্কুল ফি নিয়ে টেনশন করেন না । তাদের টেনশন হয়ত সপ্তাহে কতবার পার্লারে যাবে , কোন পার্লার এ যাবে , কোন ব্র্যান্ড এর পারফিউম বেছে নেবে । তাদের টেনশন হতে পারে কোন পার্টি তে কোন ড্রেস পরবে , টেনশন হতে পারে ২ মাস পর পর কোথায় ঘুরতে যাবে সেটা ভেবে এই রকম নানা সমস্যা থাকতে পারে । তাদের এই সকল সমস্যার সমাধান যখন আপনার ব্লগে , প্রতিনিয়ত ফেসবুক
পেজে , ইমেইল মার্কেটিং এ দিতে পারবেন তখন অবশ্যয় আপনি তাদের নজরে আসতে পারবেন ।
তবে পরামর্শের মান হতে হবে দেশ সেরা অভিজ্ঞ দের তুলনায় আর ও অনন্য ।

আপনি হয়ত ভাবছেন আপনার গ্রাহক সংখ্যা অনেক কম ঠিক তা নয় । যদি এই শ্রেনির অধিকাংশ
আপনার হয় তবে আপনাকে আর ভাবতে হবে না । আর অধিকাংশ আপনার গ্রাহক হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে কারন আপনিই একমাত্র তাদের কথা ভাবছেন , সবাই কে বাদ দিয়ে শুধু তাদের সামাধান দিচ্ছেন ।
তৃতীয় ধাপ ঃ

অসাধারণ পণ্য বা সেবা তৈরি করুন ।

অসাধারণ মার্কেটিং শুরু হয় অসাধারণ পণ্য বা সেবা দিয়ে ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে অসাধারণ পণ্য বা সেবা সেটা কি ভাবে করা যায় ?
এমন একটি পণ্য বা সেবা বেছে নেয়া যেটা ছাড়া মানুষ বসবাস করতে পারে না । এই পণ্য বা সেবা
কে এতটাই পছন্দ করে যে তাদের কাছের মানুষের নিকট শেয়ার না করে থাকতে পারে না । ঠিক একই ভাবে যাদের কাছে শেয়ার করল তারাও নিকটজন এর কাছে খুব আগ্রহ এর সাথে তা বলতে
থাকে । এই ভাবে চলতে চলতে একসময় তা ভাইরাল হয়ে যায় ।
এই টা না করে আমরা সাধারণ পণ্য বা সেবা সাধারণ মানুষের নিকট মার্কেটিং করে থাকি ।
সেবা বা পণ্যই যখন সাধারণ তখন কেন সেটা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে যাবে ?

কেনই বা সেটা মানুষ তার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবে ?

যার ফলে সেটাকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে টাকা খরচ করে মার্কেটিং করতে হয় ।

আপনি কি YouTube কে দেখেছেন টিভি তে , পত্রিকায় , বিলবোর্ড এ মার্কেটিং করতে ? নাকি আপনি আপনার বন্ধুর কাছে তার কথা শুনেছেন ? তাদের সেবা ফ্রি তে পাই সবাই আর তাদের সেবার মান এতটাই ভাল যে সেবাই মার্কেটিং ।

অসাধারণ সেবা বা পণ্য মানেই হচ্ছে সে তার নিজেই মার্কেটিং করবে আপনাকে আলাদা করে টাকা
খরছ করে করতে হবে না ।

এখন বাস্তব কথা হচ্ছে যে আপনি পরবর্তী YouTube বা Facebook করতে যাচ্ছেন না । তারা কোটি
কোটি মানুষের বড় বড় সমস্যা সমাধান করছে ।

তবে আপনি যেটা করতে পারেন তাহলো শুরুতে স্বল্প সংখ্যক মানুষের সমস্যা সমাধানে অসাধারণ পণ্য বা সেবা দাঁড় করতে পারেন ।

এখনই সময় বাসায় বসে না থেকে বেরিয়ে পড়ুন আর মানুষের সাথে তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলুন

# খুঁজে বের করুন তাদের সব থেকে যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা টি ( unsolved problem) ।
# নিজের সব টুকু উজাড় করে তাদের সেই সমস্যার সমাধান করুন ।
# আপনার পণ্য বা সেবা শুরুতে কিছু ফ্রি দিন ।
# যদি সে আপনার পণ্য বা সেবার ফ্যান হইয়ে যায় অবশ্যয় তা শেয়ার করবে ।
# যদি না করে তাহলে তাদের মতামত নিন এবং পণ্য বা সেবা আপডেট করতে থাকুন ।

অসাধারণ পণ্য বা সেবা বানানোর কোন যাদু নাই সেটা করতে হয়ত মাস লাগতে পারে এমনকি বছর
ও লেগে যেতে পারে । তবে আপনি যদি কম সংখ্যক মানুষ কে নিয়ে শুরু করেন আর তাদের পণ্য বা সেবার ব্যাবহার করার পরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আপনার সেবা বা পণ্য আপডেট করতে থাকেন তাহলে
আপনার পণ্য বা সেবার অসাধারণ হইয়ে উঠার সম্ভাবনা বাড়তেই থাকবে ।
চতুর্থ ধাপ ঃ
আপনার কোম্পানির প্রতি গ্রাহক দের গভীর আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা ।

কিভাবে আপনার পণ্য বা সেবা কে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিবেন যখন আপনার হাতে মাত্র ১লাখ টাকা

চলেন ফিরে যাই আগের রাজশাহীর সিল্ক শাড়ীর দিকে । আপনি যদি আপনার সম্ভাব্য গ্রাহক এর সমস্যা যেমন সৌন্দর্য ধরে রাখা , বা বয়স কমানো বিউটি টিপস সম্পর্কে ১০ টি ব্লগ আপনার সাইট
এ থাকে যে খানে আমদের দেশের প্রখ্যাত কানিজ আলমাস , বিবি রাসেল এর টিপস কে ছাড়িয়ে যায়
তাহলে আপনি অনন্য মান তুলে ধরতে পারলেন। যাতে করে আপনার প্রতি গ্রাহক এর নির্ভরতা বাড়বে ।
এই ভাবে আপনার গ্রাহক এর প্রত্যেক সমস্যা নিয়্য ১০ টি করে লিখা থাকে এবং সেটা একদম ফ্রি
সাথে সাথে সেটা ট্যাগ বা শেয়ার করার অপশন থাকে তাহলে যে প্রথম দেখবে সে এই গুলি আর যাদের উপকারে আসবে তাদের কে ট্যাগ বা শেয়ার করবে বা বলে বেড়াবে ।

এই ভাবে যে জানল সেও একই কাজ করবে আর এই ভাবেই তাদের মুখে মুখে আপনার পণ্য বা সেবার গুণগান ছড়িয়ে পড়বে ।  আর যদি তারা নিজে থেকে ট্যাগ বা শেয়ার না করে তবে আপনাকে
আবার ফিরে যেতে হবে আর ও ভাল কিছু লিখতে হবে ।
লিখার শেষে যোগাযোগ এর মাধ্যম দিয়ে দিতে হবে যাতে তারা প্রশ্ন করতে পারে আর আপনি উত্তর দিতে থাকবেন । এই ভাবে প্রত্যেক দিন ১০০ থেকে ১০০০ জন এর উত্তর দিলে মাস শেষে কত জন হয় ?
এই কনসেপ্ট প্রত্যেক পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । আস্থা অর্জন করতে হলে শুরুতে অবশ্যয়
অনন্য মান প্রদান করতে হবে ফ্রি তে ।

আপনি এই টাই করবেন আপনার বিজনেস এর জন্য ?

পঞ্চম ধাপ ঃ
স্পিনার তৈরি করুন আর আপনার বিজনেস এর চাকা ঘুরাতে থাকুন ।

আপনি হয়ত অনেক চিন্তার মাঝে পড়ে গেছেন আর সেটাই স্বাভাবিক ।
আপনি হয়ত জানেন না কোথায় ফোকাস করতে হবে , অনেক কিছুই আছে যা আপনি করতে পারেন
অনেক চ্যানেল আছে আপনি ইউজ করতে পারেন , এখন আপনার মাথায় অনেক আইডিয়া ঘুরপাক
খাচ্ছে ।

আপনি কোন প্রজেক্ট বেছে নেবেন আপনার শুরুতে ফোকাস করার জন্য ?
খুব সহজ

একটি বেছে নিন আর সেটার উপর লেগে থাকুন ।

প্রত্যেক দিন মানুষের জীবনে অবদান রাখতে শুরু করুন আর বন্ধ করুন আশা যে কালকেই আমার সফলতা ধরা দিবে ।
আমি জানি সফলতা আসবেই তবে জানি না কবে আসবে ?

” সফলতা হচ্ছে উপজাত যা আসে অন্নের সব থেকে জটিল কঠিন সমস্যার খুব সহজ সরল
সমাধান দেয়ার মাধ্যমে ” ।

 

Shamsul Alom Raaj

CEO & Digital Branding Specialist

BD Growth Hacker Marketing