আপনি যদি আপনার পাঠক কে না বোঝেন তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া তে আপনি সফলতার আশা করতে পারেন না ।

আর এই টা করার কোন উত্তম পন্থা নাই কিছু বেসিক মনোবিদ্যার প্রধান নীতি প্রয়োগ করে
তাদের মনের মাঝে বিচরণ করা ছাড়া । আমরা অনেক দিন থেকে জানি যে এই সব প্রধান নীতি হচ্ছে
চাবিকাঠি আপনার কনটেন্ট সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ার ।

এই লিখায় কিছু সব থেকে গুরত্ত পূর্ণ ধারনা দেয়া হবে যে গুলি আপনার মার্কেটিং কাজে লাগাতে পারেন ।
যেমন

# কেন মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট শেয়ার করে
# আপনার পাঠক এর সাথে বিশ্বাস গড়ে তুলতে কিভাবে রং এর ব্যাবহার করবেন
# মানুষের আবেগ কে কাজে লাগিয়ে কিভাবে সফল সোশ্যাল কৌশল তৈরি করতে পারেন

পড়তে থাকুন মনোবিদ্যার প্রকৃত ঘটনা যা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিয়ার জানা দরকার ।

৪ টি মনোবিদ্যার শিক্ষা যা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কে টিয়ার দের জন্য ।
১- কেন মানুষ অনলাইনে কনটেন্ট শেয়ার করে

আপনি কি কক্ষনও ভেবে দেখেছেন যে আপনি যে কনটেন্ট শেয়ার করেন তা কেন করে থাকেন ?
The New York Times তা গবেষণা করে দেখেছেন । তারা খুঁজে পেয়েছেন ৫ টি প্রধান কারন কেন
মানুষ অনলাইনে কনটেন্ট শেয়ার করে থাকে ।

# অন্যদের জীবন মান উন্নত করতে
ধরতে গেলে সবাই ( ৯৪ % ) বলেছেন যারা এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন তাদের ধারনা এই কনটেন্ট
তার পাঠক দের জীবন মান উন্নত করতে সাহায্য করবে । একজন মার্কে টিয়ার হিসাবে আপনার দায়িত্ব হবে এমন কনটেন্ট তৈরি করা যা আপনার পাঠক এমনকি পাঠকের পাঠক এর উপকারে আসবে ।

# নিজের সম্পর্কে জানানোর জন্য

তিনজনের মাঝে ২ জন ( ৬৮ % ) বলেছেন তারা কনটেন্ট শেয়ার করে থাকেন নিজের পারসোনালিটি
সোশ্যাল মিডিয়া তে জানান দেয়ার জন্য । তাই যখন কনটেন্ট তৈরি করবেন তখন মাথায় রাখবেন
যে এই কনটেন্ট আপনার পাঠকের ইন্টারেস্ট এর সাথে যায় কিনা । এবং তারা তা গর্বের সাথে
শেয়ার করে কিনা ।
# নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য এবং পুরাতন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য

৫ জনের মাঝে ৪ জনই বলেছে তারা কনটেন্ট শেয়ার করে থাকেন অন্যদের সাথে কানেক্টেড থাকার
জন্য । মাথায় রাখতে হবে যে আপনার কনটেন্ট অন্যদের সম্পর্ক লালন করতে ব্যাবহার হবে ।

# আত্মতৃপ্তির জন্য

প্রত্যেকেই চাই পজিটিভ ফিডব্যাক এবং নিজেকে মূল্যবান ভাবতে । গবেষণা বলে ইউজার তখন
কনটেন্ট বেশী উপভোগ করে থাকে যখন সে শেয়ার করে এবং সেই সময় কনটেন্ট বেশ উপভোগ
করে থাকে যখন তার নিকট শেয়ার করা হয় । রেগুলার তথ্য পূর্ণ কনটেন্ট তৈরি করুন যা আপনার পাঠক কে
এই ফিলিং পেতে সাহায্য করে ।
# পাঠক যা বিশ্বাস করে তা প্রকাশ করতে

৫ জনের মাঝে ৪ জন ( ৮৪ % ) বলেছেন তারা কনটেন্ট শেয়ার করেন তারা যে বিশ্বাস বা ব্র্যান্ড কে
গুরুতের সাথে নেন তাকে সাপোর্ট করতে । আপনি চিন্তা করুন কোন কারণসমূহ কে আপনার ব্র্যান্ড গুরত্ত দেয় সেই সমস্ত কারণসমূহ কে সাপোর্ট করে এমন কনটেন্ট তৈরি করুন ।

এই ৫ টি প্রধান প্রেরণা খুব পরিষ্কার ভাবে দেখাচ্ছে আপনার পাঠকের মূল কারন কনটেন্ট শেয়ার করার জন্য আপনার ব্র্যান্ড এর জন্য না । এই টি মাথায় রাখেন আপনার কনটেন্ট তৈরি এবং শেয়ার
করার সময় অবশ্য তা পাঠক এর উপর ফোকাস করে বানাতে হবে ।

২- সঠিক ( ভুল ) রং মানুষের আচরণ বদলে দিতে পারে
আপনি হয়ত খেয়াল করেন নাই রং হচ্ছে গুরত্ত পূর্ণ অংশ আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার কৌশল এর ,
কিন্তু মনোবিজ্ঞান প্রমান করে যে রং অবশ্য গুরত্ত পাবার ব্যাপার । ( মার্কেটিং এর উপর রং এর প্রভাব ) গবেষণা মতে । মানুষ ৯০ সেকেন্ড এর মধ্যেই মন ইস্থির করে নেয় কি ধরনের প্রাথমিক আচরণ
করবে চাই সেটা মানুষ হোক বা প্রোডাক্ট । ৬২ থেকে ৯০ সেকেন্ড সময় দিয়ে থাকে শুধুমাত্র রং বিবেচনার জন্য । কিন্তু রং আপনার ব্র্যান্ড এর সাথে মানানসই কিনা এতটুকুই শুধু রং এর জন্য না ।
একজন উদ্যোক্তা হিসাবে যা দেখেছি প্রায় প্রত্যেক একাদেমিক রং এবং ব্র্যান্ড এর উপর গবেষণায়
ব্র্যান্ডের রং অনেক বড় ভুমিকা রাখে কোম্পানির ব্যাপারে যা চিত্রিত করতে চান তা ফুটিয়ে তোলার জন্য ।

সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট এর ব্যাপারে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় , কিভাবে আপনার
পছন্দের রং আপনার কোম্পানির ম্যাসেজ পৌঁছে দিবে তা আমলে অবশ্য নিতে হবে । কোন বার্তা
আপনি দিতে চান , এবং কোন রং সেটা বাস্তবে রুপ দিতে পারবে । যখন আমরা সাধারণত নির্দিষ্ট
রং বেছে নেয় যেমন সবুজ ” যাও ” , হলুদ ” সুখের জন্য ” ।

৩- আপনার পাঠকের সাথে কিভাবে আস্থা গড়ে তুলবেন

জীবনে আপনি কোন কিছুই ক্রয় করেন নাই এমন কারো কাছে যাকে আপনি বিশ্বাস করেন না , আপনার গ্রাহকও ঠিক তেমন ।
অক্সিটোসিন নামে কেমিক্যাল এই খানে বড় ভুমিকা রাখে । অর্থনীতি পল জ্যাক বলেন যখন কেউ
ভাবে তাকে সন্মানের সাথে গ্রহন করা হয়েছে বা কোন একটি প্রশংসিত কাজের দাবিদার ভাবে তখন
এই অক্সিটোসিন ব্রেন থেকে বের হয়ে আসে ।
মানুষ তখনই তার মন বাসনা বা আচরণ বেশী বদলিয়ে থাকে যখন ফলাফল তুলনামূলক বেশী ভাল করে তোলে তাকে বা যখন বড় কিছুর অংশ হয়ে থাকে ।
আপনি আপনার পাঠকের সাথে বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য এই টা প্রয়োগ করতে পারেন । ইউজার
এর তৈরি কৃত কনটেন্ট এবং পজিটিভ রিভিউ যা অন্যান্য সম্ভাব্য গ্রাহক কে দেখাবে যে অনেক খুশি
গ্রাহক আপনার কোম্পানির সাথে আছে ।
৪- আবেগ ছোঁয়াচে

মনোবিজ্ঞান এর মতে , একটি মনোবিজ্ঞান সংগঠন এর জার্নাল বলে নির্দিষ্ট কিছু সৃতি জাগানিয়া আবেগ কোন ম্যাসেজ এর শেয়ার করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় । তাদের গবেষণা ব্যাখ্যা করেছে
” গ ল্প বা তথ্য শেয়ার হয়তো পরিচালিত হয়ে থাকে উত্তেজনা দ্বারা , মানুষ যখন মানসিক ভাবে উত্তেজিত হয় সেটা হয়তো আবেগ এর কারনে নয়তো অটোমেটিক নার্ভাস এর কারনে । ফলে সেটাই
সোশ্যাল সংক্রমণে রুপ নেয় ।

যখন আবেগ তাড়িত কনটেন্ট এর বেশী প্রভাব পাঠক এর উপর তখন পেনসিলভানিয়া ভার্সিটির
গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন কনটেন্ট যত বেশী পজিটিভ তত বেশী শেয়ার ।

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া কৌশলে পজিটিভিটি প্রয়োগ করতে চাইলে

# আপনার গ্রাহক বা ইন্ডাস্ট্রির ভাল অনুভুতি আনে সেই রকম গল্প শেয়ার করুন ।
# আপনার কনটেন্টে হিউমার ইউজ করুন ।
# আপনার গ্রাহক কে কমেন্টে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে বলুন বা প্রতিযোগিতার আয়োজন
করুন । যেমন কোন ফ্যাশান হাউজ ফেসবুকে তাদের গ্রাহক কে গত বছরের সব থেকে বেশী
ইসটাইলিশ মুহূর্ত শেয়ার করতে বলতে পারে ।
# আপনার সি ই ও বা কর্মচারীর বলা অনুপ্রেরণীয় গল্পের ভিডিও শেয়ার করতে পারেন ।
# হেপি ইমজি আপনার কনটেন্ট এর যে খানে ইউজ করতে পারেন ।

মানব্জাতি আবেগি ছোঁয়াচে , মিমি তৈরি করা কথোপকথন এর জন্ম দেয় । সোশ্যাল নিউরো সাইন্স
জার্নালে বলা হয়েছে যে আমাদের ব্রেন এর যে অংশ একটিভ থাকে আর অনলাইনে ইমজি তে
যে অংশ প্রতিক্রিয়া জানাই তা একই অংশ ।

আপনার পাঠক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা কার্যকারী কনটেন্ট তৈরিতে বড় ভুমিকা রাখে । আপনার পাঠক এর মনে বসবাস করুন তাহলে আপনি সেই কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন যা তাদের উপর
প্রভাব ফেলবে এবং আপনার বিজনেস এর উপর ।

 

Shamsul Alom Raaj

CEO & Digital Branding Specialist

BD Growth Hacker Marketing