১৩। নিজের মত করে “সম্পদ” ও “সফলতা”র সংজ্ঞা নির্ধারন করুনঃ

সফলতা ও সম্পদ মানেই টাকাপয়সা নয়। এমন অনেক মানুষ আছে যাদের টাকাপয়সা তেমন নেই এবং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও অল্প পুজিতে তারা জীবনধারন করে থাকেন।

টাকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ন। এটি অনেক সমস্যাই সমাধান করে থাকে। এটি সফলতার পথেও প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

কিন্তু টাকা শুধুমাত্রই একটি সহায়ক। কোন কাজ নিষ্পন্ন করার একটি মাধ্যম মাত্র। যারা কোন কাজ সত্যিই করতে চান তাদের ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবার জন্য টাকা সহায়তা করে থাকে।

 

১৪। নিজের ভেতরের কৌতূহল কে জাগ্রত করুন এবং এর সুত্র ধরে এগিয়ে যানঃ

আপনি যা করছেন বা করতে চাচ্ছেন তার উদ্দেশ্য টি কি ?

আপনি কিভাবে জানবেন কারনটি ?

সবথেকে বড় কথা আপনি কিভাবে আসল কারন টি জানবেন?

ব্যপারটি আসলে খুবই সহজ। আপনি একটু সৎ থেকে নিজের কাছে প্রশ্ন করে এর উত্তরটি পেতে পারেন।

আপনাকে আমি একটা প্র্যাকটিস শিখিয়ে দিতে পারি যা থেকে আপনি আপনার “কেন”র উত্তর পেয়ে যাবেন। সবথেকে বড় কথা,আপনি কাজটির পিছনে আপনার ভেতরের সত্যিকারের উদ্দেশ্য খুঁজে পাবেন। আপনাকে আপনার পরিস্থিতিতে সৎ ভাবে চিন্তা করতে হবে। কোন কিছু দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়।

যখন আপনি কোন কাজ কেন করছেন তা বের করতে যাবেন,আপনাকে “কি” প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে হবে “কেন” দ্বারা শুরু হওয়া প্রশ্ন নয়। কারন এ ক্ষেত্রে মানুষ নিজেকে বাচানোর চেষ্টা করে। নিম্নে কিছু প্রশ্ন দেয়া হলো যা আপনি এই “কেন”র জবাব পেতে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে পারেনঃ

-অমুক কাজটি আপনার জীবনে  কি ধরনের গুরুত্ব বহন  করে?

যেমন ধরুন আপনি একটি নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন,নতুন একটি সেলফোন কিনেছেন কিংবা জিমে যাচ্ছেন। বিষয়টি বড় কিংবা ছোট হতে পারে, কিন্তু বিষয়টিকে এখানে লিখে ফেলুন।

যেমন ধরুন “জিমে যাওয়া আপনার জীবনে কি ধরনের গুরুত্ব বহন করে থাকে?”

হয়তো এর উত্তরে সবার প্রথমে আপনার মাথায় আসবে “কারন আমার জিমে যেতে ভালো লাগে তাই”

এবার আপনি এই উত্তরটি নিয়ে নতুন আরেকটি প্রশ্ন করুনঃ

“আপনার জীবনে ভালো লাগা কতটা গুরুত্ব বহন করে?”

নিম্নে কাজটি করার একটি ছোট্ট পদ্ধতি দেয়া হলো

আপনি হয়তো ৬-৭ নং প্রশ্নে গেলেন। কিন্তু যখনি আপনি ৬-৭ নং প্রশ্নে চলে যাবেন আপনাকে খুব সতর্ক হয়ে নিজের কাছে সৎ থেকে প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিতে হবে।

সাধারনত প্রথম ১-৪ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি মনে মনেই দিতে পারবেন। কিন্তু আপনি যদি নিজের কাছে সৎ থাকতে চান অর্থ্যাৎ আক্ষরিক অর্থেই নিজের কাছে সত্যি সত্যিই সৎ থাকতে চান তবে আপনার ৫-৭ পর্যন্ত প্রশ্নের উত্তরগুলো চিন্তা করে নিজের ভেতর থেকে বের করতে হবে।

একদম শেষ পর্যায়ে যেয়ে আপনি সত্যিকারের “কেন”র উত্তর পাবেন যে আপনি কেন কাজটি করছেন। এমনকি সেটা নতুন একটা ফোন নেয়া বা জিমে যাওয়ার মত ছোট ব্যপার হলেও।

আপনি যেকোন কিছু করার সময় কাজটি করার গভীরতম কারনটি মাথায় রাখতে চাইবেন এবং কাজটি করার সময় গভীরতম লেভেল থেকে কাজটি করবেন। এতে আপনি কাজটি মন থেকেই করতে পারবেন, শুধুই করার জন্যে নয়।

এতে করে আপনি আরো বেশি একাগ্র হবেন।

এরপর ধীরে ধীরে আপনি শুধুই “ভালো লাগা”র জন্য জিমে যাবেন না বরং আরো বড় উদ্দেশ্য যেমন যতটা ভালো স্বাস্থ্য অর্জন করা যায় (বা আপনার কাজটি করার গভীরতম ইচ্ছার কারন যাই হোক) এর জন্য যেতে শুরু করবেন।

আপনার কোন কাজের প্রতি মনের গভীরতম ইচ্ছা ব্যক্তি হিসেবে আপনার ধ্যান,ধারনা,বিশ্বাস এবং জীবনের প্রতি মৌলিক ধারনা ফুটিয়ে তোলে।

আপনাকে বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং কিভাবে বিষয়গুলো আপনাকে কাজকে প্রভাবিত করছে তা সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে।

আপনি যদি ঠিকমত অনুশীলনটি চালিয়ে যান তাহলে আপনি মানসিক এবং আবেগগত কিছু ধারনা পাবেন। নিজের সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনি কে,আপনি যেমনটি আছেন কেন আপনি এরকম এবং কেন আপনি নির্দিষ্ট কাজগুলো করে থাকেন।

নিজের “কেন” গুলোর উত্তর খুঁজে বের করুন।

এবং তারপর এই গভীরতম “কেন”র উত্তর গুলো নিয়ে কাজ করুন।

আপনি যা করছেন তার চেয়েও অনেক বেশী দক্ষ হয়ে উঠবেন।

 

 

১৫। নিজের দৃঢ় অবস্থান তৈরি করুন, এক সময় এটিই আপনার ব্র্যান্ড হয়ে দাড়াবেঃ

সফল হতে গেলে আপনাকে বিশ্বাস রাখতে হবে।

নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে। সব সফল মানুষ এবং সব সফল ব্র্যান্ড তৈরি হবার পেছনে একটি উদ্দেশ্য ছিলো। সিমন সিনেক তার বইয়ে বলেছেন, “কেন” থেকেই শুরু করুন। মানুষ আপনি যে পন্য বিক্রি করছেন তা কেনে না ,কেন বিক্রি করছেন তাই কেনে।

Apple একটা বেশ বড় উদাহরণ। তাদের সমস্ত মার্কেটিং এ তাদের পন্য বিক্রি হবার জন্য তারা তাদের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করে না,বরং নিজেদের কোর ভ্যালু গুলো শেয়ার করে। তারা বিশ্বাস করে টেকনোলজি ব্যবহার সবার জন্য সহজ ও সাধারণ হওয়া উচিত।

আপনি যদি অসাধারন ও আকর্ষনীয় হতে চান,তবে আপনাকে অবশ্যই কিছু না কিছু বিশ্বাস করতে হবে। আপনার এ ব্যপারে স্বচ্ছ ধারনা থাকতে হবে।এই বিশ্বাস ই একসময় আপনার ব্র্যান্ড হয়ে দাঁড়াবে। এটি আপনার ট্রেডমার্ক হবে যা আপনাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলবে।

যখন আপনার একটি স্পষ্ট ও স্বচ্ছ ধারনা,বিশ্বাস ও ব্র্যান্ড থাকবে,আপনি উঠে দাড়াবেন। তখন আপনি আর নিরপেক্ষ থাকবেন না।আপনি তখন কিছু বিশ্বাস করেন এবং নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্যে পৌঁছাবার জন্য লড়াই করবেন।

ফলে মানুষ আপনাকে হয় সম্মান করবে নয় ঘৃনা করবে। মনে রাখবেন,এটিই ছিলো কিন্তু আপনার উদ্দেশ্য। lukewarm মানে হচ্ছে আপনার কিছু বলার নেই। আপনি সবার কাছেই ভালো হতে চান।

ধনীরা আপনার নিকট ভালো। কারন তারা দর্শক। আপনার সুসমাচারের প্রচারক। তারা একটা ছোট গোষ্ঠী যারা কিনা আপনার বিশ্বাসের সাথে সহমত পোষন করে।

আপনি যদি সবাইকে খুশি করতে চান তবে আপনার পন্যের মার্কেটিং,ব্যবসা কোনটিই ঠিকমত হবে না। আপনি আপনার কাজের উদ্দেশ্য বুঝবেন না। কেউই বুঝবে না। এভাবে আপনি আর দশটি মানুষের মতই সাধারণ রয়ে গেলেন এবং আপনার সফল হওয়া হল না।

শুধুমাত্র দৃঢ় উদ্দেশ্য এবং অবস্থানের মানুষই মার্কেটিং এ খুব ভালো করতে পারে। তারা যে মেসেজটি দিতে চায় সে ব্যপারে ওয়াকিবহাল থাকে। তারা কি করতে হবে “কেন” করতে হবে এর সাথে “কিভাবে”করতে হবে সে সম্পর্কেও সম্যক ধারনা রাখে।

উপসংহারঃ

আপনি কি এই ১৫ টি কাজ করছেন?

কতটা প্রতিজ্ঞা ও দৃড়তা নিয়ে করছেন ?

আপনি কি একজন কোটিপতি  হতে চান?

আপনি কি চিন্তা করতে ও বড় কিছু করে দেখাতে প্রস্তুত?

আপনার জন্য লেখাটি কাজে লেগেছে ?

Sadia Alfee Lena

Growth Expert

BD Growth Hacker Marketing