কোটিপতি হতে চান এই লিখাটির এর আগে ৩ টি পর্ব হয়ে গেছে আজকে চতুর্থ পর্ব

১০। মার্কেটিং এ বেশ ভালো হউনঃ

মার্কেটিং আসলে সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝা ছাড়া আর কিছুই না।এই বিষয়টাই মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন,তাদের প্ররোচিত করা এবং সাহায্য করাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।বেশীরভাগ মানুশই মনে করেন মার্কেটিং বা পাব্লিসিটি খুবই জঘন্য এবং অনৈতিক কাজ।বেশীরভাগ শিল্পীই মার্কেটিং শেখেন না,কারন তারা তাদের শিল্প “বিক্রি” করতে চান না।তারা চান তাদের শিল্প থাকুক শুদ্ধ।

একাডেমিকরা ও আলাদা নন।তারা চান না তাদের কাজগুলো সাধারণ মানুষের হস্তগত না হউক।

মার্কেটিং আসলে কিছুই না।এটা শুধুই আপনার কাজকে সহজ করে দেয়া ও সহজে খুঁজে বের করা ও ব্যবহারের একটা মাধ্যম।

মানুষ ম্যাজিকের মত আপনার কাছে এসে আপনার পন্যটি কিনবে না।।মানুষ ম্যাজিকের মত এসে আপনার লেখাটি পড়বে না।

এমনকি এখন; আপনি কিভাবে এই লেখাটি খুঁজে পেলেন? লেখাটির শিরোনামের দিকে তাকান।চিন্তা করুন তো!আমি যদি শুধুই লিখতাম “সফল হবার উপায়”,আপনি কি লেখাটি পড়তেন?এমনকি লেখাটিতে ক্লিক করতেন? অবশ্যই না।

কিন্তু আপনি লেখাটিতে ক্লিক করেছেন।কেন করেছেন? এমনকি লেখাটি এতদূর পর্যন্ত পড়েছেন।কিভাবে? আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভাবুন।

মার্কেটিং হল আপনি যা-ই করেন, “কিভাবে” করলেন সেটা।

বেশীরভাগ মানুষই সফল হয়না কারন তারা হয় মার্কেটিং কে ভয় পায় বা এড়িয়ে চলে।ঠিক এ কারনেই বেশীরভাগ ভালো ছাত্রই ভবিষতে ভালো শিক্ষক হতে  পারে না।কারন তারা উপস্থাপনের চেয়ে কন্টেন্টের উপর বেশী জোর দেয়।

কিন্তু এই উপস্থাপন-অর্থাৎ আপনি কিভাবে ডেলিভারী দিচ্ছেন এটি আপনার লেকচার কি বিষয়ের উপর বা লেকচারটি আপনি কেন দিচ্ছেন,তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার কাছে ক্যানসারের ঔষধ থাকতে পারে,কিন্তু আপনি যদি জিনিসটি ভালোভাবে মার্কেট না করতে পারেন তাহলে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।তা আসলে কোন কাজেই লাগবে না।

আপনার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বা সংবাদ টি থাকতে পারে।কিন্তু এটি কেউ কিন্তু জানবে না বা দেখবে না যদি না আপনি এর প্রচার ও প্রসার ভালোমত ঘটান।

১১। সময় ও পরিশ্রমের উপর ফোকাস না করে ফলাফলের দিকে মনোযোগ দিনঃ

Exclusive entrepreneurial coaching platform এর স্ট্র্যাটেজিক কোচ ড্যান সুলিভান “Time and effort economy” এবং “results economy” এর মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছেন।

আপনি যদি time and effort economy এর মধ্যে থাকেন,তাহলে আপনি ব্যস্ততার প্রতি বেশী মনযোগ দিচ্ছেন।আপনি কোন কিছুতে নিজের জ্ঞান প্রয়োগ অপেক্ষা সময় ও পরিশ্রমের প্রতি খেয়াল করছেন।বিপরীতভাবে যখন আপনি result economy তে মনোযোগ দিবেন, আপনি নির্দিষ্ট একটি ফলাফল নিয়েই ভাববেন।

শেষ লাইনটিই গুরুত্বপূর্ন।এটি আপনাকে কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।এটিই উদ্যোক্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে।সুলিভান এর মতে,

“উদ্যোক্তা রা time and effort economy ও results economy এর মদ্যের রিস্ক লাইন পার করে ফেলেছেন।তাদের কোন নিশ্চিত ইনকাম নেই।তাদের জন্য দুই সপ্তাহ পর পরি কেউ পে চেক লিখছে না।ক্লায়েন্টদের ভ্যালু তৈরির মাধ্যমে সুযোগ তৈরির যোগ্যতা থাকায় তারা চলতে পারেন।কিছু সময় আপনারা অনেক সময় এবং পরিশ্রমের মাধ্যমেও কোন ফল না পেতে পারেন।আবার কখনো কখনো তারা এত সময় ও পরিশ্রম না করা সত্ত্বেও অনেক বড় ফলাফল পেয়ে যেতে পারেন।উদ্যোক্তাদের মনযোগ সবসময়ই হওয়া উচিত ফলাফলের দিকে, লাভের দিকে নয়।সত্যি বলতে কি,আপনি যদি কোন উদ্যোক্তার জন্য কাজ করে থাকেন,এটি আপনার জন্যেও সত্য।যদিও আপনার মাস শেষে নিশ্চিত ইনকাম আছে,আপনার ব্যবসা কিন্তু এই results economy এর মধ্যেই নিহিত,যদিও আপনি তা দেখতে পাচ্ছেন না!আপনার ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই।আমি শুধু বলতে চাচ্ছি যে এ পরিবেশে সময় ও পরিশ্রম কমিয়ে কিভাবে ফলাফলের দিকে মনযোগ দিতে হয় তা শিখুন”

অধিকাংশ মানুষই এত কিছু নিয়ে ভাবে না,শুধু চাকুরী করে যান।কারন তাদের নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টি শুধু ওই পে চেক এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। মোট কথা,যখনই আপনি কত কমে কাজে শেষ করতে পারছেন এর থেকে কত বেশী কাজ করতে পারছেন,এ বিষয়ের দিকে মনযোগ দিতে পারবেন,আপনার কাজের প্রতি ধারনাই বদলে যাবে।

আপনি সাফল্য কত দ্রুত আনা যায় তা শিখবেন।আপনি দায়িত্ব নিতে শিখবেন।আপনি আপনার চারপাশের পরিবেশ পালটে দিতে শিখবেন।আপনি এ ও শিখবেন যে,সর্বোচ্চ ফলাফল পাবার জন্য ঘুম এবং বিশ্রামও কতটা ভূমিকা পালন করতে পারে।এতে আপনি অনেক বেশী ঘুম এবং বিশ্রামের জন্য নিতে পারবেন।আপনি যখন আপনার এনার্জীর ৮০ ভাগই বিশ্রাম ও আত্মউন্নয়নে ব্যয় করবেন,আপনি দেখবেন আপনার কাজ আরো বেশী শানিত হচ্ছে এবং আপনি আরো নিখুত ভাবে কাজ করতে পারবেন।

আপনি অন্যদের চেয়ে ১০ গুণ বেশী সাফল্য আশা করছেন।আপনি সময় সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করছেন।আপনি অনেক বেশী প্রেশার নিয়ে কাজ করছেন।তাই আপনার জন্য ঘুম বিশ্রাম অনেক বেশি জরুরি।কিন্তু আপনাকে কাজের সময় আপনাকে সর্বোচ্চটাই দিতে হবে,কারন আপনি অন্যদের চেয়ে অনেক অনেক বেশী সময় প্রস্তুতি গ্রহন ও বিশ্রাম করে ব্যয় করছেন।

১২। নিজের কাজের পরিবেশ বদল করুনঃ

আপনার কাজের পরিবেশ আপনার কাজকে প্রভাবিত করে।এমনকি আপনার কাজের পরিবেশ দেখেও বোঝা যাবে আপনি কি ধরনের কাজ করছেন।

একই পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা তেমন কার্যকরী নয়।কিন্তু মানুষ তাই করে থাকে।তারা একই সিটে বসে একটার পর একটা কাজ করতে থাকে।

সবথেকে ভালো উপায় হচ্ছে নিজের কাজগুলোকে ভাগ করে নিন।এরপর কাজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিবেশ বাছাই করুন।

যেমন যখন আমি ব্লগ পোস্ট লিখি তখন আমি নিশ্চুপ একটা রুমে  বসে কাজ করি যেখানে আমার কাজের কোন ব্যাঘাত ঘটবে না।আমার পরিবেশ আমাকে লিখতে প্রেরনা জোগায়।আর আমি যদি ভাবি যে আজ লিখবো তাহলে আমি একসাথে অনেক লিখে ফেলতে পারি।লেখক এবং উদ্যোক্তা, আরি মেইসেল নিজের কাজগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে নিয়ে পরিবেশের সাথে মিলিয়ে কাজগুলো করে থাকেন।তাকে যদি কোন পডকাস্ট রেকর্ড করতে হয় তিনি রেকর্ড স্টুডিও তে চলে যান এবং একসাথে ৫টি পডকাস্ট এপিসোড একসঙ্গে রেকর্ড করেন।

পরদিন তিনি তার সারাটা দিন মিটিং এবং কল করে কাটান।তিনি কাজগুলো তার বন্ধুর এপার্টমেন্টে করেন, কারন সে পরিবেশটা তার কাছে বেশী কার্যকর মনে হয়।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ধরনের লেখালিখি করেন নিউ ইয়র্কে তার shoho house এ।কারন  এটি একটি নিরিবিলি বাড়ী যাতে কোন ইন্টারনেট সংযোগ নেই।এতে তার অযথা কম্পিউটার বা মোবাইলে ওয়েব ব্রাউজ করে সময় নষ্ট করতে হয় না এবং তিনি তার কাজে পূর্ণ মনযোগ দিতে পারেন।